আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একাধিক অভিবাসননীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছে। রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সে অবস্থিত আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র শুক্রবার ১৩৫ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি থেকে কার্যত বঞ্চিত করেছিল, যা আইনসম্মত নয়।
রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, প্রশাসন কোনো আইনগত ও বিধিগত ক্ষমতা ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করেছে এবং এতে “অগণিত অভিবাসীকে অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তায়” ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারীরা কংগ্রেস নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগোলেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস তাদের আবেদনের নিষ্পত্তি না করে আটকে রেখেছিল। বিচারক আরও লেখেন, এসব সিদ্ধান্তে “অ্যান্টি-ইমিগ্র্যান্ট সেন্টিমেন্ট” বা অভিবাসীবিরোধী মনোভাব প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের থ্যাংকসগিভিং সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলির ঘটনার পর অভিবাসন-সংক্রান্ত কড়াকড়ি আরও বাড়ায়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আফগান নাগরিক রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল পরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সেই ঘটনার পরই প্রশাসন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা ১৯ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৩৯ দেশে নেয়; এর মধ্যে আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়ার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল।
আদালতে মামলা করে অভিবাসীসেবা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আইনগত ভিত্তি ছাড়াই প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে এমন বিধিনিষেধ চাপিয়েছে, যা কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইনের পরিপন্থী। বিচারক ম্যাককনেল মামলাকারীদের পক্ষে গিয়ে বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত—কিন্তু ইউএসসিআইএস তা মানেনি।
রায়ের ফলে ৩৯ দেশের নাগরিকদের আশ্রয়, কর্মসংস্থানের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদন পুনরায় প্রক্রিয়াকরণের পথ খুলে গেছে। এ রায় শুধু মামলায় যুক্ত আবেদনকারীদের নয়, ইউএসসিআইএসে ঝুলে থাকা সংশ্লিষ্ট সব আবেদনেও প্রভাব ফেলবে বলে ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন। অভিবাসন-সমর্থকেরা রায়কে, আইনের শাসনের জয়’ হিসেবে স্বাগত জানালেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে আদালতের আরেকটি বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিল, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো অভিবাসনপ্রক্রিয়া স্থগিত করতে পারে না—কমপক্ষে আদালতের দৃষ্টিতে তা আইনসিদ্ধ হতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি