রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কোনো ধরনের সরকারি প্রটোকল, পতাকা বা নিরাপত্তা বাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাভারের আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তার এই হঠাৎ পরিদর্শনে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, সেবা কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে।
সোমবার (৮ জুন) এই আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি দুই কার্যালয়ের সেবা কার্যক্রম, জনবল উপস্থিতি এবং সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের শুরুতেই আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসাইন খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর কার্যালয়ে আসেন বলে জানা যায়।
এছাড়া কার্যালয়ের মোট ৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র দুইজন সার্ভেয়ার ও নামজারি সহকারী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন। বাকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি পরিদর্শনের সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিমন্ত্রী জানতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভূমি অফিসে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং জনভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতা পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে তথ্য কেন্দ্র-কাম-হেল্প ডেস্কের দুর্বল অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রেকর্ড কিপিং ও ডেটা এন্ট্রি ইউনিট পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন এবং কার্যক্রম চালু রয়েছে। পরে প্রতিমন্ত্রী একাধিক রেকর্ড রুম ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ সময় কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে মিউটেশন বা নামজারি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিনি সার্ভার-সংক্রান্ত কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের শোকজ করার নির্দেশ দেন।
তিনি তথ্যকেন্দ্রকে আরও কার্যকর করতে ডেডিকেটেড জনবল নিয়োগের ওপর জোর দেন এবং সময়ানুবর্তিতার চেয়ে সেবার মান ও কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল (পলাশবাড়ী) ও সাভার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন নামজারি কার্যক্রম এবং অবৈধ দোকানপাট তার নজরে আসে।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে বিষয়টি অবহিত করে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই আকস্মিক পরিদর্শনে আমিনবাজার ও আশুলিয়া দুই রাজস্ব সার্কেলেই সেবা ব্যবস্থাপনা, উপস্থিতি শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে একাধিক দুর্বলতা ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম