রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সীমান্তে অবৈধ ‘পুশইন’ বন্ধে ভারতকে একাধিকবার কূটনৈতিকভাবে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে ১২ থেকে ১৩টি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তে পুশইনের যেকোনো চেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোরভাবে প্রতিহত করছে।
সোমবার (৮ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে যেকোনো পুশইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক রীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিপন্থী। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য দেশে অবস্থান করলে তাকে ফেরত পাঠানোর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতকে কাজ করতে হবে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, অবৈধ পুশইনের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে নারী, শিশু ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ সামনে আসার পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সীমান্তজুড়ে চার পালায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পুশইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। আজ সোমবার থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বিজিবি ও বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন, যা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।
বিজিবি জানিয়েছে, সম্মেলনে অবৈধ পুশইন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম