স্টাফ রিপোর্টার: অবকাঠামোনির্ভর উন্নয়নের নামে আসন্ন বাজেটে দেশের গরীব মানুষের ওপর বোঝা না চাপানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। দলটি বলছে, ‘গরীবের উপর কর না চাপিয়ে ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত সরকারের।’
সোমবার (৮ জুন) দলের প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তাকিন ভুইয়া স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ আহবান জানান।
তারা বলেন, ‘যদি ঋণগ্রস্ত কোন অর্থনীতি না চায়, রাষ্ট্র ও সরকারকে অবশ্যই একটা জনবান্ধব অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল একটি করনীতিমালা। যাতে করে গরীবের উপর করের বোঝা না চাপিয়ে ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘দীর্ঘ স্বৈরশাসন পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও নতুন সৃষ্ট দারিদ্র্য উত্তোরণে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট বাজেটের ৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রদান ও কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা, সরকারের খাদ্য মজুদ করার সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, অতি দরিদ্র মানুষের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী খাদ্য সহায়তা চালু করা, বাজেটে সারের ভর্তুকি কমিয়ে কৃষকদের নগদে ভর্তুকি প্রদান করা, কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন গঠন করা, দূর্যোগকালীন সময়ে কৃষি বাজার ও মূল্য ব্যবস্থাপনার জন্য বহু- মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা সময়ের দাবী।’
তারা আরো বলেন, ‘দেশের সকল দুর্দিনে একমাত্র বিশ্বস্থ্য আশ্বস্থ হওয়ার জায়গা হলো কৃষি। প্রধানমন্ত্রীও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিবেন বলে আশা রাখি। আমাদের দেশের কৃষক সবসময় বঞ্চিত হচ্ছেন। এই মুহূর্তে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হলে কৃষকের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা দিতে হবে। কৃষিখাতের ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। কৃষিজ আয়, হিমাগার নির্মাণ, কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল আমদানির ওপর করছাড়ের মাধ্যমে সরকার বাজেটে কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে উদ্যোগী হবে।’
নেতৃদ্বয় ‘প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক, ভাসমান শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ ও সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক বিশেষ প্রণোদনা প্রদান এবং একই সাথে প্রকৃত শ্রমিকদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে যাচাই বাছাই শেষে তাদের ডাটাবেজ তৈরি করে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, কর্মহীন শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে জামানত ছাড়া আইডি কার্ড ও ব্যক্তিগত গ্যারন্টি নিয়ে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধের জন্য সুদবিহীন সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদানের দাবি জানান।’
তারা বলেন, ‘পুরনো মডেলটা ছিল অবকাঠামোনির্ভর। বড় বড় প্রজেক্ট হবে, সবাইকে প্রদর্শন করা যাবে, আর সেই দেখানোর ভেতর দিয়ে বড় বড় চুরি করা যাবে। এই প্রকল্প থেকে সরে এসে মানুষ এবং প্রকৃতি কেন্দ্রিক একটা নতুন ধরনের উন্নয়ন নীতি সরকারকে গ্রহন করতে হবে। বিদেশ নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বাজেট হলো রাষ্ট্রের উন্নয়ন দর্শন। বাজেটে যে বরাদ্দ থাকে, সেটা কোথায় কমবে বা বাড়বে তার চেয়ে জরুরী বিষয় হল, টাকাটা কার কাছে যাবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছর বছর যে ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেটার পুরোটাই যায় উৎপাদকদের পকেটে। অথচ ভর্তুকির টাকাটা যায় জনগণের পকেট থেকে। এ অবস্থা থেকে জনগনকে রেহাই দিতে হবে। তার ফলে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করে এ খাতে দুর্নীতি কমাতে হবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব