ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও একটি জোড়া হত্যা মামলার বাদী কৃষক রফিকুল ইসলাম রফিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রফির মা লাইলী বেগম এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৩ জুন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের ব্যানাকুড় মাঠ থেকে রফিকুল ইসলাম রফিকে একটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বিজিবির দাবি, সোর্স ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন বলে দাবি করেন তিনি।
লাইলী বেগমের অভিযোগ, তার ছেলে কোনো সন্ত্রাসী বা অস্ত্র ব্যবসায়ী নন। তিনি ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘটিত আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন। তার দাবি, ওই মামলার আসামিদের একটি পক্ষ নিজেদের রক্ষা করতে এবং রফিকে সরিয়ে দিতে বিজিবির কিছু সদস্যকে বিভ্রান্ত করে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে রফি নিজ জমিতে গবাদিপশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস কাটতে যান। পরে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বিজিবির একটি টহল দল তাকে থামায়। তার শরীর তল্লাশি করে কোনো অবৈধ বস্তু না পেলেও পরে তাকে ঘাসক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে ভারতীয় পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু উদ্ধার দেখিয়ে সেটিকে বিদেশি অস্ত্র হিসেবে দাবি করা হয়।
লাইলী বেগম আরও দাবি করেন, এর আগেও রফিকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ১১ মে রাতে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তাকে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রফির বোন জেসমনি আরা, মেয়ে লাকি বেগম, স্বজন আব্দুল আলীম, সোহরাব হোসেন, ইছাহাক সরদার, মহসিন আলী ও চঞ্চল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি সত্য এবং রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেই বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে বিজিবি দাবি করেছে, রফিকুল ইসলামের দেহ তল্লাশি করে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। তবে গত ৩ জুন প্রকাশিত বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্রটি তার নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের স্থান নিয়ে বিজিবির দুটি পৃথক বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু