আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বন্দিদের অধিকার ও পুনর্বাসনের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার পোপ লিও চতুর্দশ স্পেনের একটি বৃহৎ কারাগার পরিদর্শন করেছেন। বুধবার বার্সেলোনার উপকণ্ঠে অবস্থিত ব্রিয়ানস-১ কারাগারে গিয়ে তিনি বন্দিদের অতীতের ভুল সংশোধন করে নতুন জীবন শুরু করার আহ্বান জানান।
স্পেনের কোনো কারাগারে এটিই কোনো পোপের প্রথম সফর। বন্দিদের উদ্দেশে পোপ লিও বলেন, মানুষের অতীত তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না; বরং তা সঠিক সিদ্ধান্ত ও জীবনধারা বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিও বর্তমানে এক সপ্তাহব্যাপী স্পেন সফরে রয়েছেন। সফরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্সেলোনা সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বুধবার তিনি স্থপতি আন্তোনি গাউদির নকশায় নির্মিত বিখ্যাত সাগরাদা ফামিলিয়া ব্যাসিলিকার নতুন টাওয়ার উদ্বোধন করবেন। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গির্জা হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি বার্সেলোনার অন্যতম প্রতীক।
১৯৯১ সালে নির্মিত ব্রিয়ানস-১ কারাগারটি বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে প্রায় এক হাজার বন্দি রয়েছেন।
কারাগারের বন্দি মন্টসে বেনাভেন্তে পোপের সামনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজের বিশ্বাস ও পরিবারের প্রতি করা ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত। তার ভাষায়, ‘এটি জীবনে একবারই পাওয়া যায় এমন একটি সুযোগ। উত্তেজনায় আমি এক মুহূর্তও ঘুমাতে পারিনি।’
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আফ্রিকা সফরের সময় নিরক্ষীয় গিনির একটি কারাগারও পরিদর্শন করেন পোপ লিও। সেখানে তিনি বন্দিদের মুক্তির আকুতি শুনেছিলেন।
প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসও বন্দিদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে, ডাবল নিউমোনিয়া থেকে সেরে ওঠার সময় তিনি রোমের একটি কারাগার পরিদর্শন করেছিলেন।
বার্সেলোনার ওই কারাগারের এক বন্দি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল মুন্দো’কে বলেন, পোপের সফরে তারা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। নাম প্রকাশ না করে ‘মায়তে’ নামে পরিচিত ওই বন্দি বলেন, ‘কারাগারে থাকা মানুষদের খুব সহজেই সবাই ভুলে যায়। পোপের এই সফর আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’
রিপোর্টার্স২৪/এসসি