বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি ঠোটা এলাকায় নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের সন্ধান দাবিকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও কোস্টগার্ডের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে জানতে এলাকাবাসী জয়মনি ঠোটা এলাকার কোস্টগার্ড ক্যাম্পের দিকে গেলে কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কোস্টগার্ডের একটি পল্টুন ও একটি স্পিডবোটে ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রানা শেখ বলেন, “আমরা শুধু মিরাজের খোঁজ জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে কোস্টগার্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে আহত হন। আমরা মিরাজের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পালাতে গিয়ে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর নিখোঁজ মিরাজ শেখের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম ও বোন লিজা ইসলামকে কোস্টগার্ড হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে মোংলা থানা পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
উল্লেখ্য, মিরাজ শেখ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। পরিবারের দাবি, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জয়মনি ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী দুই ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ।
এ ঘটনায় পরিবার ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন