ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: চীন ও সোমালিয়ার চাপ সত্ত্বেও তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসবে না সোমালিল্যান্ড। নতুন প্রতিনিধি কার্যালয় উদ্বোধনের সময় শুক্রবার এমন মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানে নিযুক্ত সোমালিল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক মাহমুদ আদাম জামা গালাল। তিনি বলেন, কার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, তা নির্ধারণের অধিকার সোমালিল্যান্ডের নিজস্ব বিষয়।
আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কার্যত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সোমালিয়া গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও এরপর থেকে তুলনামূলক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে অঞ্চলটি।
আন্তর্জাতিকভাবে সীমিত স্বীকৃতি পাওয়া সোমালিল্যান্ড ও তাইওয়ান ২০২০ সালে একে অপরের রাজধানীতে প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপন করে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বীপটিকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে।
নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের গালাল বলেন, “তাইওয়ান আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মিত্র।”
চীন ও সোমালিয়ার পক্ষ থেকে সম্পর্ক ছিন্নের চাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোমালিল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তিনি বলেন, “কার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে, তা বেছে নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। এটি আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তাই চাপ প্রয়োগের কৌশল সফল হয়নি।”গালাল আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিবাদ জানিয়ে তাইওয়ানের পাসপোর্টধারীদের সোমালিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল মোগাদিশু।
দীর্ঘ সময় কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলেও গত ডিসেম্বর সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। এ পদক্ষেপকে সোমালিয়া তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘ইচ্ছাকৃত আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করে। চীনও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও তাইওয়ান তা স্বাগত জানায়।
নতুন কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উ বলেন, গত ছয় বছরে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, “তাইওয়ান ও সোমালিল্যান্ড উভয়ই গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের আলোকবর্তিকা।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে আফ্রিকায় প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। বর্তমানে আফ্রিকার মধ্যে শুধু ক্ষুদ্র রাষ্ট্র এসওয়াতিনি দ্বীপটির সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
তাইওয়ানের দাবি, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে এবং দ্বীপটির প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে চীনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। রয়টার্স প্রতিবেদন
রিপোর্টার্স২৪/এসসি