সিনিয়র রিপোর্টার: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় দায়ের করা ওই মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নিজেই মামলাটি করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিয়ের দাবি জানালে জিসান মিয়া প্রধান শুক্রবার বিয়ের দিন নির্ধারণের আশ্বাস দেন। তবে ১২ জুন (বৃহস্পতিবার) তিনি বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি; তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, একটি প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
বর্তমানে জিসান মিয়া প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম বলেন, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছাড়াও সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি