স্পোর্টস ডেস্ক: নিউ জার্সির তপ্ত গরমে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা মরক্কো ২১তম মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে গেলেও ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাফটাইমে স্কোরলাইন ১-১।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো উচ্চ প্রেসিং ও দ্রুত আক্রমণে ব্রাজিলকে চাপে রাখে। সপ্তম মিনিটে নাহিত নাদির–হাকিমি জুটির আক্রমণে নিকটবর্তী সুযোগ তৈরি হয়। মাজরাউইয়ের ক্রস থেকে নিল এল আয়নাউইয়ের শট ব্লক করেন ব্রুনো গিমারায়েস, না হলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়তে পারত ব্রাজিল। একই আক্রমণে আশরাফ হাকিমির নিচু শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়।
তবে মরক্কোর চাপ সামলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে থাকে ব্রাজিল। ১৪তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় তারা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাঁ দিক থেকে পাঠানো নিখুঁত ক্রসে ইগর থিয়াগো ফাঁকায় হেড করলেও বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি।
১৯ মিনিটে রাফিনিয়ার থ্রু পাসে ভিনিসিয়ুস গোলমুখে জায়গা তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে হাকিমির ট্যাকলে বিপদমুক্ত হয় মরক্কো। তবে চাপ অব্যাহত থাকে দুই প্রান্তেই।
২১তম মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত থ্রু পাস দেন ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেদ করে। গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও মারকিনিয়োসকে ফাঁকি দিয়ে বল পেয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে এসে আলিসনকে লব করে বল জালে জড়ান তিনি।
গোল হজমের পর কিছুটা অগোছালো দেখায় ব্রাজিলকে। ২৯ মিনিটে আবারও বিপদে পড়ে তারা, যখন হাকিমির ফ্রি-কিকে আয়নাউইয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। পরের আক্রমণেও সাইবারির শট ব্লক করে ব্রাজিল রক্ষণ।
তবে ৩২তম মিনিটে জবাব দেয় সেলেসাওরা। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে বাম দিক থেকে কাট ইন করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল পাঠান মরক্কোর গোলরক্ষক বুনুর নাগালের বাইরে। এটি ছিল তার জাতীয় দলের হয়ে ৫০তম ম্যাচে স্মরণীয় এক গোল।
গোলের পর ম্যাচ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৩৭ মিনিটে কাসেমিরো হলুদ কার্ড দেখেন। ৪৩ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজকে থামাতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রজার ইবানেজ, ফলে চাপ বাড়ে ব্রাজিলের ওপর।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে মরক্কো আবারও আক্রমণে ঝড় তোলে। ৪৫+৩ মিনিটে পাকেতার শক্তিশালী ভলি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন বুনু। কর্নার থেকে মারকিনিয়োসের হেডও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৪৫+৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস ফাউলের আবেদন করলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যান।
পরিসংখ্যানেও মরক্কোর আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট। প্রথম ৩০ মিনিটেই তারা ১২টি শট নেয়, যা ব্রাজিলের বিপক্ষে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ শিরোপা না পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়ানোর শঙ্কায়।
হাফটাইমে ম্যাচ সমতায় থাকলেও মরক্কোর গতি, সাহসী আক্রমণ এবং ব্রাজিলের ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলক দ্বিতীয়ার্ধে আরও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি