নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে দাবি করেছে।
যদিও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, পূর্বে করা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসায় তাকে জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বর্ণনা দেওয়া একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে সুবাদে কিশোরীও মাঝেমধ্যে সেখানে যাতায়াত করত।
কিশোরীর অভিযোগ, স্কুলে যাওয়া কিংবা বিকেলে দোকানে যাওয়ার সময় তদন্ত কেন্দ্রের পাশ দিয়ে যাতায়াতকালে খোরশেদ আলম তাকে প্রায়ই বাসার তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে ডাকতেন। প্রথমদিকে তিনি সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসায় ডাকা হতো। সেখানে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী। বাধা দিলে তাকে ও তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাগুলো গোপন রাখার জন্য কিশোরীকে কখনও ৫০০, কখনও ১ হাজার টাকা দেওয়া হতো এবং একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো।
লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি প্রথমে কাউকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী। তার ভাষ্য, সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে কিশোরীর মা খোরশেদ আলমের বাসার সামনে গিয়ে মেয়েকে ডাকলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং মাকে অন্য কথা বলে বিদায় করে দেন। পরে রাতে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পুরো ঘটনা মাকে জানান।
কিশোরীর মা দাবি করেন, মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তারা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছিলেন এবং লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় রাকিব ও স্বর্ণকার কবির নামে দুই ব্যক্তি পুলিশের পক্ষ নিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গত চার মাস ধরে আমরা ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না। পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন হাতিয়া সার্কেলের কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জেনেছি। তবে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে আমার কাছে নতুন কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগী কিংবা তার পরিবারের সদস্যরাও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।’
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু