জামালপুর প্রতিনিধি: কর্মসংস্থানের আশায় রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে—এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে নিজের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম আরমান আলী।
আরমান আলীর দাবি, তার সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া চারজন ছাড়া বাকি সবাই যুদ্ধে মারা গেছে। বর্তমানে জীবিত থাকা ওই চারজনকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এ সময় যুদ্ধে নিহত কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন তিনি। তাদের মধ্যে জামালপুরের আরিফ হোসেন ও মফিজ মিয়া নামের দুজন নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন আরমান।
আরমানের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার গোদা শিমলা এলাকায়। তিনি বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দেড় মাস আগে রাশিয়ায় গেছে। সেখানে তার ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় যাওয়ার কিছুদিন পরই তাকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে থাকা চারজন বাংলাদেশিও আহত হয়েছেন।’
আরমানের বাবা আরো বলেন, গত রবিবার ছেলের সঙ্গে এক মিনিট কথা হয়েছিল। সে সময় আরমান জানিয়েছে, তাদের গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সেটি সে বলতে পারেনি।
এদিকে অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরচড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (২৬) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে মফিজ মিয়ার (২৪) পরিবারে চলছে মাতম।
মফিজ মিয়ার পরিবার জানায়, চলতি বছরের ৭ মে এক দালালের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা খরচ করে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করার কথা থাকলেও তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২৯ মে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একই দিন রাশিয়ায় যাওয়া আরিফ হোসেনকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ২৯ মে সবশেষ পরিবারের সঙ্গে কথা হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গেও আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব