রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সরকারি দপ্তরে সময়মতো উপস্থিত না হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে অফিসের নির্ধারিত সময় কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, অন্যথায় চাকরিতে থাকার যৌক্তিকতা থাকবে না।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন এবং পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে এসে অনেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে জনসেবা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তিনি সতর্ক
করে বলেন, যদি সময়মতো অফিসে না আসেন, তাহলে ধরে নেব জনগণ ও কর্মস্থলের প্রতি আপনার দায়িত্ববোধ নেই। সে ক্ষেত্রে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সেবায় গাফিলতি বা অনীহা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশে দক্ষ জনবল ও চাকরিপ্রার্থীর অভাব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনগণের সেবা দিতে না চাইলে জনসেবক হিসেবে থাকার প্রয়োজন নেই।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের সংস্কৃতি আর চলবে না। মাসিক বেতনের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য দেখা গেলে সরকার তা খতিয়ে দেখবে।
তিনি বলেন, এক লাখ টাকা বেতন নিয়ে যদি কেউ কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ির মালিক হন, তাহলে সরকার নিশ্চুপ থাকবে এমন ধারণা ভুল।
ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ধর্ষক বা মাদক কারবারির কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হতে পারে না। এসব অপরাধে জড়িতদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক তদবির না করার আহ্বানও জানান তিনি।
বিরোধীদের বাজেট সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়নমুখী ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাভিত্তিক বাজেট স্বাভাবিকভাবেই উচ্চাভিলাষী হবে। তার ভাষায়, স্বপ্ন দেখার সাহস আছে বলেই আমরা স্বপ্নের বাজেট দিতে পেরেছি।
তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের ১৯টি জেলায় একযোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালুর কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম