ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে একই দিনে পৃথক দুটি স্থান থেকে দুই কিশোরী ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃতদের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং অন্যজন দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। একটি ঘটনায় অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর ঘটনায় অপহৃত মাদরাসাছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে (১৬) জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৭ জুন মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ এলাকার মো. রাহুল ওরফে রাকিবুল ইসলামকে (২৭) প্রধান আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর তদন্তে নেমে সদর থানা পুলিশ ১৮ জুন কুষ্টিয়া থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, আসামি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে অপহরণ করেছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, একই দিন জেলার ভূল্লী থানা এলাকা থেকে এক মাদরাসাছাত্রী (১৬) নিখোঁজ হয়। তিনি স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় ১৮ জুন মেয়েটির ভাই বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় পূর্ব বগুলাডাঙ্গী গ্রামের হোসেন আলী (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এ বিষয়ে আগে তার পরিবারকে সতর্ক করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। গত ১৪ জুন দুপুরে ছাত্রীটি বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে উঠলে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি অটোরিকশাযোগে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ছাত্রী ও অভিযুক্ত উভয়েই নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) দীন মোহাম্মদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন