স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল কুরাসাও। গোলরক্ষক এলোই রুমের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে শক্তিশালী ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করেছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি।
পুরো ম্যাচে একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওকে চাপে রাখে ইকুয়েডর। ২৭টি শট নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, যার মধ্যে ১৫টিই ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু প্রতিবারই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান কুরাসাওয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলোই রুম। একাই ১৫টি সেভ করে দলের অর্জিত এক পয়েন্টের নায়ক বনে যান তিনি।
ম্যাচজুড়ে কুরাসাও রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণেও কয়েকবার ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছিল। জুনিনহো বাকুনা ও তাহিথ চংয়ের নেতৃত্বে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগও তৈরি করেছিল দলটি। যদিও শেষদিকে দুজনকে তুলে নেওয়ার পর আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায়। তবু রক্ষণে অসাধারণ দৃঢ়তায় কাঙ্ক্ষিত ফল ধরে রাখতে সক্ষম হয় কুরাসাও।
যোগ করা সময়ে ইকুয়েডর জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। মোইসেস কাইসেদো বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হয়েছেন দাবি করে পেনাল্টির আবেদন জানান, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষা করেও পেনাল্টির কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।
এর কিছুক্ষণ পর ইকুয়েডরের নিচু ক্রস নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেওয়ার উপক্রম করেছিলেন কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডার অবিসপো। তবে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে রক্ষা পায় ক্যারিবীয় প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে আরেকটি দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ পেয়েছিল কুরাসাও। গোরের বাড়ানো পাস থেকে কাস্তানিয়ারকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বলের গতি বেশি হওয়ায় সুযোগটি হাতছাড়া হয়।
দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে এখন ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে ইকুয়েডর। নকআউট পর্বে উঠতে হলে শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প থাকবে না তাদের সামনে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে কুরাসাও। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অল্পসংখ্যক সমর্থকদের উল্লাসে জমে ওঠে উদযাপন, আর হতাশায় নীরব হয়ে যান কানায় কানায় পূর্ণ অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে উপস্থিত ইকুয়েডর সমর্থকেরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি