রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাবা— মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ, অথচ এর পরিধি অসীম। ভালোবাসা, দায়িত্ব, ত্যাগ, নির্ভরতা ও নিরাপত্তার এক অনন্য প্রতীক এই মানুষটিকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। আজ রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে দিনটি।
সন্তানের জীবনে একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নেপথ্যের কারিগরও তিনি।
মায়ের ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ্য ও দৃশ্যমান হলেও বাবার ভালোবাসা থাকে অনেকটা গভীর নদীর স্রোতের মতো—নীরব, কিন্তু প্রবল। হয়তো তিনি খুব কম কথা বলেন, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পরিশ্রম ও প্রতিটি দুশ্চিন্তার ভেতর লুকিয়ে থাকে পরিবারের প্রতি তার অসীম দায়িত্ববোধ।
যেভাবে শুরু বাবা দিবস
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। এ দিবসকে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সনোরা স্মার্ট ডড। মা হারানোর পর নিজের বাবার একক প্রচেষ্টায় সাত ভাইবোনের বেড়ে ওঠা দেখে বাবার প্রতি সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।
১৯০৯ সালে তিনি বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বর্তমানে জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিনটি পালন করা হয়।
নীরব আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতিতে বাবাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—তারা নিজেদের কষ্ট খুব কমই প্রকাশ করেন। সংসারের খরচ, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কিংবা চিকিৎসার ব্যয়—সব দায়িত্ব নীরবে বহন করেন তারা।
অসংখ্য বাবা নিজের প্রয়োজনকে পেছনে ঠেলে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে জীবন উৎসর্গ করেছেন। হয়তো নিজের জন্য নতুন পোশাক কেনেননি, কিন্তু সন্তানের বই বা শিক্ষার খরচে কখনো কার্পণ্য করেননি। অনেকেই নিজের চিকিৎসা পিছিয়ে দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালোবাসার বার্তা
বিশেষ এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতার বার্তায় ভরে উঠেছে মানুষের টাইমলাইন। কেউ শেয়ার করছেন বাবার সংগ্রামের গল্প, কেউ প্রকাশ করছেন অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন নয়; বরং এটি একজন বাবার নীরব অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার উপলক্ষ। একটি ফোনকল, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো কিংবা একটি ‘ধন্যবাদ’—এগুলোই একজন বাবার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে।
সম্পর্কের পুনর্জাগরণের আহ্বান
জীবনের শেষ বয়সে অনেক বাবাই একাকীত্বের মুখোমুখি হন। সন্তানরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেদের জীবন ও কর্মে। অথচ যে মানুষটি একসময় পুরো পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন, তিনিই ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যান।
বিশ্ব বাবা দিবস তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করার দিন নয়; এটি বাবাকে বোঝার, তার ক্লান্তি অনুভব করার এবং তার নিঃশব্দ ভালোবাসাকে সম্মান জানানোর দিন। কারণ পৃথিবীর অনেক সম্পর্ক শব্দে প্রকাশ পায়, কিন্তু বাবার ভালোবাসা প্রকাশ পায় দায়িত্বে। আর সেই দায়িত্বের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত ভালোবাসার গল্প।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি