শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে স্মার্টফোনের পর্দায় ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে বহু পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন নামে পরিচিত অনলাইন বেটিং বা জুয়া অ্যাপের মাধ্যমে কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজ লেনদেনের সুযোগ থাকায় এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল, যাদের বড় অংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী।
২০১৮-১৯ সালের দিকে অনলাইন জুয়ার বিস্তার শুরু হলেও করোনা মহামারির সময় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বৃদ্ধি এর প্রসার আরও বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকায় এটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই জুয়ার কারণে জমিজমা, ভিটেমাটি ও শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক কলহ, ঋণগ্রস্ততা, চুরি-ছিনতাই ও আত্মহত্যার মতো ঘটনাও বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন অনলাইন বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এই কার্যক্রম চলছে। সহজ লেনদেন ব্যবস্থা থাকায় সাধারণ মানুষ দ্রুত এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “সহজে টাকা পাঠানো যায় বলে লোভে পড়ে অনেকেই এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে, পরে সব হারিয়ে ফেলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন