স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’। জার্মান ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এডিডাসের তৈরি এই বলকে ঘিরে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি গোলরক্ষকদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মত দিয়েছেন সাবেক তারকারা।
১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের জয়ে বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনোনেস। এরপর থেকেই টুর্নামেন্টজুড়ে গোলের বন্যা বইতে শুরু করে। ১৪ জুন হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির ৭-১ গোলের বড় জয় কিংবা চার দিন পর ভ্যাঙ্কুভারে কাতারের বিপক্ষে কানাডার ৬-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় তারই উদাহরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, টুর্নামেন্টে গোলসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে এডিডাসের নতুন ‘ট্রিওন্ডা’ বল। আধুনিক ‘কনেক্টেড বল’ প্রযুক্তি ও বিশেষ বহুপ্যানেল নকশার কারণে বলটি বাতাসে দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হচ্ছে, যা গোলরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক গোল করেন। প্রথম রাউন্ডেই ২২ গজের বেশি দূরত্ব থেকে পাঁচটি গোল হয়েছে। এর মধ্যে সুইডেনের ইয়াসিন আয়রির দুটি গোল ছিল ২৪.৮ ও ২৪.৩ গজ দূর থেকে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার কনর মেটকাফ ২৫.৬ গজ এবং মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি ২৪.৭ গজ দূর থেকে গোল করে নজর কাড়েন।
বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, নতুন বলটির গতি ও আচরণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গোলরক্ষকদের বেগ পেতে হচ্ছে। ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে মার্টিন বাতুরিনার গোলের সময় বলটি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত জর্ডান পিকফোর্ডের দিকে ধেয়ে যেতে দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরেক সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পল রবিনসনের মতে, কয়েকটি ক্ষেত্রে বলটি প্রত্যাশিত আচরণ করেনি এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
তবে সবাই যে সমস্যায় পড়ছেন, তা নয়। সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস উরুগুয়ের বিপক্ষে ৯টি সেভ করেন। কেপ ভার্দের ভোজিনহা সাতটি সেভ করে স্পেনকে গোলশূন্য রাখেন। অন্যদিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কুরাসাওয়ের এলয় রুম ১৫টি সেভ করে নতুন রেকর্ড গড়েন।
বিশ্বকাপে বল নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘জাবুলানি’ বলও অস্বাভাবিক গতিপথ ও হঠাৎ দিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই আসরে ১৪৫ গোলের মধ্যে ২৬টিই এসেছিল পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে।
তবে এবারের বিশ্বকাপে গোলের গতি আরও বিস্ময়কর। মাত্র ৩৩ ম্যাচেই একশ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছে টুর্নামেন্ট, যা গত ৬৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে শত গোলের রেকর্ড। আর সেই গোলবন্যার পেছনে এডিডাসের ‘ট্রিওন্ডা’ বলের ভূমিকা নিয়েই এখন ফুটবল বিশ্বে চলছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি