প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 24-06-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ কুষ্টিয়ায় অ্যাপের মাধ্যমে নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে জরিমানা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন নামিদামি ওষুধ কোম্পানির নাম ব্যবহার করে কম মূল্যে নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কুমারখালী থানামোড় এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার এ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. রহমতুল্লাহ এবং থানা পুলিশ।
জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং ‘মেডিগো’ নামের একটি অ্যাপের বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর)।
জানা গেছে, মেহেদী হাসান কুমারখালী থানামোড় এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে ‘মেডিগো’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ওষুধ কম মূল্যে সরবরাহের প্রস্তাব দেন এবং ফার্মেসি মালিকদের মোবাইল ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করে দেন।
বিষয়টি জানতে পেরে ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সংগঠন ‘ফারিহা’র সদস্যরা তাকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা ওষুধ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ওষুধ ও কসমেটিকস আইনে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুমারখালী ফারিহার সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মেডিগো’ অ্যাপের মাধ্যমে নামিদামি কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে কম মূল্যে নকল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে ফার্মেসি মালিক ও অ্যাপ সংশ্লিষ্টরা লাভবান হলেও রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রকৃত ওষুধ কোম্পানি ও তাদের প্রতিনিধিরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, না জেনে-শুনেই চলতি মাসের ৪ জুন থেকে তিনি কুষ্টিয়া জেলায় এ কাজ শুরু করেন। তিনি জানান, কোম্পানির নাম-ঠিকানা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই এবং প্রতি লাখ টাকার বিক্রিতে ২ শতাংশ কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করছিলেন।
জেলা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. রহমতুল্লাহ বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে ফেরি করে ওষুধ বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। অ্যাপটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, এভাবে ফেরি করে ওষুধ বিক্রির কোনো বিধান নেই। জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।