আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে ইসরায়েল এককভাবেই সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর।
ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল ৭ নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। বেন-গভীর বলেন, আমেরিকানরা খুবই সরল বা বোকা হবে যদি তারা মনে করে যে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করবে এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে সরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের এই হুমকির মোকাবিলা করা এবং প্রয়োজন হলে এর বিরুদ্ধে এককভাবে পদক্ষেপ নেওয়া ইসরায়েলের নিজস্ব দায়িত্ব।
সাক্ষাৎকারে বেন-গভীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত মতপার্থক্যের বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য নয়।
তার ভাষায়, কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েল কোনো বন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে না, এমনকি সেই বন্ধু যদি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বা শক্তিশালী রাষ্ট্রও হয়।
বেন-গভীরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা বা শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন যেখানে কূটনৈতিক উপায়ে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে ইসরায়েলের ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ সামরিক বিকল্প খোলা রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকলেও, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে দুই মিত্র দেশের মধ্যে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বেন-গভীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই মতপার্থক্যকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে এবং ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশ যে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছে, তা স্পষ্ট করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি