গাইবান্ধা প্রতিনিধি: তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে আলোচিত গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত ১৮ জুন বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজার একটি বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাদের উপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এসিল্যান্ড মো. জসিম উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ধমক দিয়ে অফিস ত্যাগ করতে বলেন এবং একপর্যায়ে নিজেও কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমলে নেয় বিভাগীয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধায় গিয়ে ঘটনাটির তদন্ত করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথিপত্রও পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত কার্যক্রমের পরদিনই হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত বা সরকারি সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে জমিটিতে সরকারের কোনো স্বার্থ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের আরেকটি প্রতিবেদনে একই জমিতে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। পরস্পরবিরোধী এই দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে ভূমি প্রশাসন, খাসজমি ব্যবস্থাপনা এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি