স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শুরুতে নিজেদের ইতিহাস বদলের স্বপ্ন দেখেছিল স্কটল্যান্ড। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্যও ছিল স্পষ্ট। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর সেই স্বপ্ন এখন ঝুলছে সূতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই জয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা, অন্যদিকে সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে স্কটিশদের।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড। রক্ষণভাগে স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল কেড়ে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। তার কাছ থেকে বল পেয়ে সহজেই গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
কিছুক্ষণ পর আবারও রক্ষণভাগের ভুলে বিপদে পড়ে স্কটল্যান্ড। জ্যাক হেনড্রির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয়বার জাল খুঁজে পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে হেনড্রির ওপর ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
তবে বিরতির ঠিক আগে আর কোনো ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারায়েসের দারুণ ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভিনিসিয়ুস। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হেড থেকে গোল করার ঘটনা খুব বেশি না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় স্কটল্যান্ড। কিন্তু ৬০তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের চমৎকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি আক্রমণ থেকে ম্যাথিউস কুনিয়া গোল করে ব্রাজিলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় উচ্ছ্বাসের মুহূর্তটি আসে ৭৬তম মিনিটে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তনে মায়ামির গ্যালারিতে উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই হারের ফলে স্কটল্যান্ডের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। প্রথম ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের পর আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন মরক্কো এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে কঠিন দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারাতে হয়েছে তাদের।
বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের কাছে এক গোলের ব্যবধানে হারলে স্কটল্যান্ডের শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ। বিরতির আগে দ্বিতীয় গোল হজমের পর তা নেমে আসে ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশে। আর ম্যাথিউস কুনিয়ার তৃতীয় গোলের পর সেই সম্ভাবনা কমে দাঁড়ায় ৪৯ দশমিক ২ শতাংশে।
এখন সামনে অপেক্ষা উদ্বেগ, হিসাব-নিকাশ এবং অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকার। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন এখনও বেঁচে থাকলেও সেটি আর পুরোপুরি স্কটল্যান্ডের নিজেদের হাতে নেই।
স্কটল্যান্ডের একাদশ
অ্যাঙ্গাস গান, নাথান প্যাটারসন, জ্যাক হেনড্রি, স্কট ম্যাককেনা, অ্যান্ডি রবার্টসন, বেন গ্যানন-ডোক, কেনি ম্যাকলিন, লুইস ফার্গুসন, জন ম্যাকগিন, স্কট ম্যাকটমিনে ও লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড।
ব্রাজিলের একাদশ
আলিসন বেকার, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, মার্কিনিওস, দানিলো, লুকাস পাকেতা, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথিউস কুনিয়া ও রায়ান।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি