স্পোর্টস ডেস্ক: দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার জুনিয়র। চোট, অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের কঠিন সময় পার করে অবশেষে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করলেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। এরপর প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। অবশেষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা গেল দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। গ্যালারিতে উপস্থিত ৬৪ হাজারের বেশি দর্শক তখন করতালি ও উচ্ছ্বাসে স্বাগত জানান ১০ নম্বর জার্সিধারী এই তারকাকে।
স্বল্প সময় মাঠে থাকায় ম্যাচে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে না পারলেও নেইমারের প্রত্যাবর্তন ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর। বিশেষ করে নকআউট পর্বের আগে তার ফিরে আসা কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে মাঠের খেলায় স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং অপর গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনিয়া।
পুরো ম্যাচজুড়েই আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার বিপদে ফেলেছে।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, পরাজয়ের পর স্কটল্যান্ডের নকআউট ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর।
তবে ফলাফলের বাইরেও মায়ামির রাতটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের জন্য। প্রায় আড়াই বছরের অপেক্ষার পর আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে মাঠে দেখে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সমর্থকেরা।
নকআউট পর্বের আগে নেইমারের ফিট হয়ে ওঠা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি