রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মুদির দোকানের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ছোট ও খুচরা পর্যায়ের এসব দোকানের আয় সীমিত হওয়ায় তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ আরোপ করা বাস্তবসম্মত নয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, মুদির দোকানগুলো সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা। তাদের আয়ের পরিমাণ খুবই সীমিত। তাই তাদের ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত হবে না। তবে যারা কর দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন কিন্তু নানা কারণে করের বাইরে থাকেন, তাদের অবশ্যই করের আওতায় আনা উচিত।
দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রিজভী বলেন, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত যাতে সাধারণ, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরণপোষণ নিশ্চিত হয়। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কখনো এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যাতে সাধারণ মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে পরিচালিত হতে হবে। জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নানা ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা যায়নি এবং দলের জনপ্রিয়তায় কোনো ধস নামেনি।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, চীনে চলমান উচ্চপর্যায়ের সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তার ভাষায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। দুই দেশের বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, চীনের শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিজভী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে কর-সুবিধা প্রদান একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তার দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসবে এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে দেশের উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ এখন বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির পথে এগোচ্ছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ধারা সেই পথেই এগোচ্ছে।
ভারতের কলকাতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক এবং রুচিবিরোধী।
তিনি দাবি করেন, উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো অনেক বিদেশি নেতার নামে স্থাপনা রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে শিষ্টাচারের উদাহরণ।
সবশেষে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম