স্পোর্টস ডেস্ক: প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন নেইমার। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমে নিজেকে ভীষণ নার্ভাস লাগছিল বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের শেষদিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ২১ মিনিট খেলেন নেইমার। এটাই ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ব্রাজিলের জার্সিতে তার প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল গ্লোবো টিভিকে নেইমার বলেন, "আমার হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত হচ্ছিল, আমি ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু একই সঙ্গে খুব আনন্দিতও। আমি গর্বিত, সবকিছু ভালোভাবেই হয়েছে।"
এটি নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ডান পায়ের কাফের চোটের কারণে তিনি ব্রাজিলের টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে নিজের ফিটনেস নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্পূর্ণ ফিট কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে নেইমার বলেন, শতভাগ, শতভাগ।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর ব্রাজিলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যায় নেইমারের। দীর্ঘ পুনর্বাসন ও কঠিন সময় পার করে অবশেষে আবারও জাতীয় দলে ফিরলেন তিনি।
ফিরেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সেই মুহূর্তের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন নেইমার।
ছবিগুলোর সঙ্গে ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন, "REMEMBER WHO YOU ARE" বা "তুমি কে, সেটা মনে রেখো"।
নেইমার জানিয়েছেন, এই বার্তাটি তিনি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন ব্রিটিশ ফর্মুলা ওয়ান তারকা লুইস হ্যামিলটনের কাছ থেকে। চলতি মৌসুমে ফেরারির হয়ে কঠিন সময় পার করার পর স্পেনের বার্সেলোনায় নিজের প্রথম গ্রাঁ প্রি জয়ের পর একই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন হ্যামিলটন।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। নকআউট পর্বের আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকার ফিরে আসা ব্রাজিলের শিরোপা স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি