ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ইসরায়েল-লেবানন নিরাপত্তা চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর শনিবার সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম ঘোষণা দেন, এই চুক্তি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি কার্যত বাতিল।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবানন সরকারের একতরফা ছাড় এবং দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপসের মাধ্যমে এই সমঝোতা হয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করার বিষয়টিকে তিনি ‘সব লাল রেখা অতিক্রম’ বলে উল্লেখ করেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কাঠামোগত এই চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত একটি সম্প্রসারিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
নাইম কাসেম বলেন, “আমরা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িনি, এখনও ছাড়ব না।” তিনি জানান, হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
এদিকে চুক্তির পরও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলাটি এমন একটি এলাকায় হয়েছে যা ইসরায়েলের ঘোষিত নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল এমন একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হিজবুল্লাহ নেতা আরও বলেন, চলতি মাসের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক, যেখানে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেটিই সংঘাত নিরসনের ভিত্তি হওয়া উচিত; নতুন ওয়াশিংটন চুক্তি নয়।
গত কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাতে ১০ লাখের বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইরান ও হিজবুল্লাহর দাবি, বৃহত্তর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত অবসানে স্বাক্ষরিত সমঝোতার অংশ হিসেবেই লেবাননে সংঘাত বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি