রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি বাজার এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, মারধর ও দেশত্যাগের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সেলিম আহাম্মেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রঞ্জিত চন্দ্র দে ও তার পরিবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী রঞ্জিত চন্দ্র দে জানান, কুসুমহাটি বাজার এলাকায় ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত ১০ শতক জমি তারা গত ১৩ বছর ধরে ভোগদখলে রেখে আসছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেলিম আহাম্মেদ জোরপূর্বক ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের হয়রানি করতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয় এবং জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রতিপক্ষ পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সম্প্রতি নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সরে গিয়ে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয় এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রঞ্জিত চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, তাকে এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভারত চলে যাওয়ার জন্যও চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
এ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জমির পূর্ব মালিক আলাল উদ্দিন বলেন, “সেলিম মিথ্যা মামলা দিয়ে রঞ্জিত ও তার পরিবারকে হয়রানি করছেন। আমরা জমিটি প্রথমে হান্নান নামে একজনের কাছে বিক্রি করি। পরে ২০১৩ সালে তিনি রঞ্জিত চন্দ্র দের কাছে জমিটি বিক্রি করেন। এই জমিতে সেলিমের কোনো মালিকানা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইন্তাজ আলী অভিযোগ করেন, সেলিম আহাম্মেদ অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
লছমনপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সাবেক সদস্য বলেন, “আমাদের জানা মতে, এটি রঞ্জিত চন্দ্র দের বৈধভাবে ক্রয় করা সম্পত্তি। এখানে জোরপূর্বক বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে সেলিম আহাম্মেদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে শেরপুর জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতারা অবগত আছেন এবং তারাই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করছেন।”
এদিকে শেরপুর সদর থানার এএসআই উজ্জল বিশ্বাস জানান, আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং মামলার বাদী সেলিম আহাম্মেদ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশনা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলমান থাকলেও অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি