টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের ডুবাইল ও জামুর্কি এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডুবাইল ও জামুর্কি এলাকায় স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অবরোধ কর্মসূচিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, সেহড়াতৈল, ইসলামপুর ও পড়াইখালী এবং মির্জাপুর উপজেলার মহেরা, জামুর্কি, পাকুল্লাসহ বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মও স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বারবার পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে তারা মহাসড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বিদ্যুতের দাবিতে কয়েকটি গ্রামের গ্রাহকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং পুলিশি তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের দাবি ছিল টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের সঙ্গে তাদের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ যুক্ত করার, যাতে তারা লোডশেডিংয়ের কবলে না পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন