নেত্রকোনা প্রতিনিধি: আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ফুটবলপ্রেমীরা। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৯৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। পিক আওয়ারে উপজেলাটির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। উপজেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে, যার মধ্যে কেন্দুয়া এলাকায় আটটি এবং রামপুর এলাকায় চারটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কাগজে-কলমে ফিডারের সংখ্যা ১৩টি হলেও ৪ নম্বর ফিডারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কেন্দুয়া এলাকার আটটি ফিডারের মধ্যে বর্তমানে ছয়টিই অচল রয়েছে। ময়মনসিংহ গ্রিডের মাধ্যমে নেত্রকোনা হয়ে কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, অফিস ভাঙচুরের ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানাকে জানানো হয়েছে। আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা না গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।