স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথম সেশনে চাপে পড়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। সেই লড়াইয়ের নেতৃত্বে ছিলেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনারের ঘূর্ণিজাদুতে তৃতীয় সেশনের প্রথম ঘন্টাতে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। তবে ততক্ষণে ২৭০ রানের বড় লিড নিয়ে নিয়েছে স্বাগতিকরা। হারারে টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪১০ রানে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে।
১৪০ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের চা বিরতিতে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৩৫০। তখনও ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধেভেরের জুটিতে বড় সংগ্রহের পথেই ছিল স্বাগতিকরা। তৃতীয় সেশনের শুরুতে দুই ব্যাটারই ফিফটি তুলে নেন। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও এই জুটি ভাঙতে পারছিল না বাংলাদেশ। ১৫৯ বলে ১০২ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়ের লিড দুইশ ছাড়িয়ে যায়। অবশেষে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামই ভাঙেন প্রতিরোধ। ১০০ বলে ৬০ রান করা ক্রেইগ আরভিন সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে হাসান মাহমুদের হাতে ধরা পড়েন। ১০২ রানের জুটি ভাঙার পর ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে আসে বাংলাদেশ।
এরপর শুরু হয় তাইজুলের একক আধিপত্য। ব্র্যাড ইভান্সকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলার পর দ্বিতীয় স্লিপে তাওহীদ হৃদয়ের দারুণ ক্যাচে ফেরান নিউম্যান নিয়ামহুরিকে। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্টে ১৯তম পাঁচ উইকেটের দেখা পান তাইজুল। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার সাকিব আল হাসানের রেকর্ডেও ভাগ বসান তিনি।
এরপরও থামেননি তাইজুল। স্টাম্প উড়িয়ে দেন অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার। ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। শেষ ব্যাটার ব্লেসিং মুজারাবানিকেও এলবিডব্লিউ করে ইনিংসে সপ্তম শিকার তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই ৪১০ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
ইনোসেন্ট কাইয়া ২২৭ বলে ১৭ চার মেরে সর্বোচ্চ ১৪০ রান করেন। এছাড়া ক্রেইগ আরভিন ৬০, ব্রায়ান বেনেট ৫৯ এবং ওয়েসলি মাধেভেরে অপরাজিত ৫৪ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ১৩৭ রান খরচায় ৭ উইকেট শিকার করেন। খালেদ আহমেদ নেন ২টি। ২৭০ রানে পিছিয়ে দিনের শেষ ভাগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচে টিকে থাকতে হলে ব্যাটারদের সামনে এখন বড় পরীক্ষা। অন্তত আজকের দিনটি অনায়াসেই পার করতে হবে সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়কে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব