স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম।
সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় সেনেগাল। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭০তম মিনিটে ইসমাইলা সারের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে বেলজিয়ামের বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে বদলে যায় দৃশ্যপট। ৮৬তম মিনিটে রোমেলু লুকাকুর গোলে ব্যবধান কমায় বেলজিয়াম। এরপর ৮৯তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান ইউরি তিলেমানস। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দল বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম দেন বেলজিয়ামের অধিনায়ক তিলেমানস। ১২৫তম মিনিটে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে জয়সূচক গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সেনেগাল। বেলজিয়ামের বক্সের ঠিক বাইরে হ্যান্ডবলের ঘটনায় ফ্রি-কিক পায় আফ্রিকান দলটি। তবে পাপ সারের নেওয়া শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে শেষ হয়ে যায় তাদের আশা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে বেলজিয়ান শিবির। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সেনেগালকে।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়াম, তা এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।