নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে নির্যাতন করা সেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।বিষয়টি জানিয়েছেন নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
নিহতের নাম আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) সদর উপজেলার গোবারা মালোপাড়া এলাকায় ওই যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত সোমবার (২৯ জুন) ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন নিহত ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি ব্যক্তির বড় ভাই মো. নবীর হোসেন।
এঘটনায় এজাহারভুক্ত অভিযুক্তরা হল, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস।
এজাহার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নিহত আনোয়ার হোসেন মানষিক প্রতিবন্ধী। তিনি গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া নামে একজন তাদের বাড়িতে সংবাদ পাঠায় আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে প্রসেনজিৎের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে বেঁধে সারা রাত মারধর করে। এর একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়।
পরেদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, তার ভাই মানষিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ