রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘নিঃশর্ত আনুগত্য’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ন্যাটো কোনো একক দেশের নির্দেশে নয়, বরং সব সদস্য দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জার্মানির সাপ্তাহিক সাময়িকী ‘ডের স্পিগেল’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, ন্যাটো কোনো একক সদস্য দেশের আধিপত্যে পরিচালিত হয় না; বরং জোটের সব সিদ্ধান্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ট্রাম্প কি জার্মানিসহ ন্যাটো সদস্যদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য চান? জবাবে পিস্টোরিয়াস বলেন, এ ধরনের নিঃশর্ত আনুগত্য ন্যাটোর ধারণার সঙ্গে যায় না। ন্যাটোর সিদ্ধান্ত সব সদস্য রাষ্ট্রের স্বাধীন ও পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্যের সময় ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষা কখনও কখনও “কঠোর” মনে হতে পারে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে এবং যৌথ স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ বাইরের কোনো চাপের কারণে নয়, বরং নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থেই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানি ও ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক বিনিয়োগ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে ছিল, যা জোট এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়েছে।
তার মতে, এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং জোটের সম্মিলিত নিরাপত্তায় আরও বেশি দায়িত্ব নিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম