রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর পাংশায় মো. জামিন বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষ থেকে বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার মাজাইল বাজার সংলগ্ন নিহতের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের ছেলে।
এ সময় মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির দাবি জানায় পরিবার।
মামলার বাদী নিহতের ছেলে রিপন বিশ্বাস বলেন, তার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এ মামলার এখনো একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জানান, জীবিকার প্রয়োজনে তিনি রাত-বিরাতে ভ্যান চালান, কিন্তু এ সময় আসামিরা লোকজনের মাধ্যমে মীমাংসার চাপ সৃষ্টি করছে এবং মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নিহতের স্বজন মো. মতিউর রহমান মিঠু বলেন, বাংলাট এবং মাজাইল গ্রাম পাশাপাশি হওয়ায় মাঝখানে একটি খাল রয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাট গ্রামের লোকজন তাদের এলাকায় হামলা করতে এলে, নিহত জামিন বিশ্বাস বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে খালের মধ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাংশা ও পরে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের গোয়ালঘর ও খড়ির ঘরে আগুন দেয়। এরপর তারা বাড়ির আসবাবপত্র ও গবাদিপশু সরিয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে এই ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা দেওয়া হয়েছে, যেখানে কয়েকশ নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. অন্তর বিশ্বাস অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। বরং অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রাতে বাড়িতে থাকতে পারছে না বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। এর আগে একই দিনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সময় মাজাইল খালের মধ্যে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম