রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কৃষি কার্ড চালুর ফলে দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস) তৈরি হবে, যা উৎপাদন পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তার মতে, এতে যোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমে আসবে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কী পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভুল তথ্য থাকবে। এর ভিত্তিতে কৃষকদের আগাম জানানো সম্ভব হবে কোন ফসলের চাহিদা কত। ফলে কৃষকরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে লোকসানের ঝুঁকিও কমবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, একেক মৌসুমে কোনো কোনো সবজির অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারে দাম কমে যায়। অনেক সময় কৃষক উৎপাদিত টমেটো বা অন্যান্য সবজি ক্ষেত থেকেই তুলতে চান না, কারণ বাজারে নেওয়ার পরিবহন খরচও ওঠে না। এতে কৃষককে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
এই সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব কোল্ড স্টোরেজ সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) চালিত হবে, যাতে কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন এবং কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য না হন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে কৃষি ঋণে জর্জরিত হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম