ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো দেশটিকে ‘শেষ করে দেওয়া হবে’-এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম।
সোমবার ইরান ইস্যুতে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমরা যেকোনোভাবেই জিতব। হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, না হলে তাদের কাজ শেষ করে দেব।
তবে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন বলেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি চুক্তিকেই প্রাধান্য দিতে চাই। কারণ ৯ কোটি মানুষের ক্ষতি আমি চাই না। আমরা চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সেতু ও আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিতে পারি। একসময় তাদের অনেক অর্থ ছিল, এখন আর তা নেই। আমরা তাদের কোনো অর্থ দিইনি।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক আঘাতেই ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুজনিত শোক উপলব্ধি করতে পারবে না। কারণ তাদের কোনো সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র যেন একটি আতরের বোতল ভেঙেছে, যার সুবাস এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে। হেলিকপ্টারে করে সেখানে নেওয়া মরদেহের জানাজা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ ইরাকের নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে।
দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরান শাসন করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে এক বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব