রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে তাকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে যে সমালোচনা হচ্ছে, তার আড়ালে মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করা।
তিনি লেখেন, বিভিন্ন টক শোতে বিরোধী পক্ষের মুখে তিনি বারবার শুনেছেন, মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে এ বিষয়ে তিনি বিভ্রান্ত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী নিজেই ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বয়সে ছোট, কখনো একই স্কুল-কলেজে পড়েননি এবং রাজনৈতিক সূত্রেই তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক।
রাশেদ খানের ভাষ্য, “মীর শাহে আলমকে আক্রমণের নামে প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকার কারণে একজন মন্ত্রীর সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে মিথ্যাচার ও গঠনমূলক সমালোচনা এক বিষয় নয়।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় গোপালগঞ্জের অবস্থান সপ্তম এবং বগুড়ার অবস্থান ১৬তম। কিন্তু জনমনে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিমন্ত্রী নিজের জেলা বগুড়াতেই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ নিয়েছেন।
রাশেদ খান বলেন, “তার কোনো ভুল থাকলে অবশ্যই সমালোচনা করা হবে। কিন্তু সম্মিলিত মিথ্যাচারের পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য মীর শাহে আলমকে টার্গেট করে সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে উপস্থাপন করা।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মীর শাহে আলম বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমিরের ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়ন নিয়েও সমন্বয় সভা করেছেন। অতীতেও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তাদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এসব ইতিবাচক উদ্যোগের স্বীকৃতি না দিয়ে তাকে সবসময় সমালোচনার মুখে ফেলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, “তাদের ধারণা, মীর শাহে আলমকে বিতর্কিত করতে পারলে প্রধানমন্ত্রীকেও বিতর্কিত করা যাবে। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরাও সোচ্চার। কারণ, মাসখানেক আগে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। এসব কারণেই বর্তমান বিরোধী দল ও পতিত স্বৈরাচারের পক্ষের লোকজন একযোগে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম