স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলে পেনাল্টি নেওয়ার সময় শটের আগে হঠাৎ গতি কমিয়ে দেওয়া বা থেমে থেমে দৌড়ানোর কৌশল (স্টাটার রান-আপ) এখন বেশ আলোচিত। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই কৌশল ব্যবহার করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন, লিওনেল মেসির মতো তারকারা। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই পদ্ধতি আসলেই কতটা কার্যকর?
মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ম্যাচের ৩০ মিনিটের আগেই পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স। বক্সে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পান কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল স্পটে রেখে থেমে থেমে দৌড়ে শট নিলেও তার পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো।
‘স্টাটার পেনাল্টি’ কৌশলটি কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের সময় থেকেই পরিচিত। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো গোলরক্ষকের ছন্দ নষ্ট করা এবং তিনি কোন দিকে ঝাঁপ দেবেন, তা আগে বুঝে নেওয়া। পাশাপাশি ভিএআর যুগে গোলরক্ষককে গোললাইন থেকে এগিয়ে আসা ঠেকানোও এর একটি সুবিধা হিসেবে দেখা হয়।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনও এই কৌশল ব্যবহার করেছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার প্রথম পেনাল্টি গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ ঠেকালেও পরে গোলরক্ষক লাইন ছেড়ে সামনে চলে আসায় পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার সুযোগ পান কেন। দ্বিতীয়বার সফল হন তিনি।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই কৌশল সবসময় সফল নয়। এবারের বিশ্বকাপে স্টাটার রান-আপে নেওয়া ২২টি পেনাল্টির মধ্যে ১৪টিই মিস হয়েছে। অর্থাৎ সফলতার হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে কোনো বিরতি ছাড়া স্বাভাবিক দৌড়ে নেওয়া ২৮টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টিতে গোল হয়েছে, সফলতার হার প্রায় ৬৬ শতাংশ।
এমবাপ্পে, ব্রাজিলের ব্রুনো গুইমারায়েস, নরওয়ের জর্জেন স্ট্র্যান্ড লারসেন ও হ্যারি কেন—অনেকেই এই কৌশলে ব্যর্থ হয়েছেন। লিওনেল মেসিও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্টাটার রান-আপ ব্যবহার করে পেনাল্টি মিস করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টাটার রান-আপ গোলরক্ষকের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক ছন্দও নষ্ট করতে পারে। ফলে কৌশলটি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণও।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি