খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নিহতের নাম আরফানা হোসেন নির্জনা। তাকে হত্যার পর ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে মরদেহ বস্তায় ভরে অন্যত্র ফেলে আসে তার মা-বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানান নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা।
শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, গত ৮ জুলাই নগরীর নিরালা প্রান্তিক আবাসিক এলাকার তিন নম্বর রোডে বস্তাবন্দি এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে জানা যায় এটি আরফানা হোসেন নির্জনা নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ। নির্জনা নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পত্তির একমাত্র মেয়ে।
খুলনায় দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে মা গ্রেপ্তার হয়েছেন। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের মা সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেন। পরে পুলিশের আরও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা শিকার করেন। সীমার দাবি, নির্জনা অস্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় এক বিবাহিত ছেলের সাথে প্রেম করে বিয়ে করে। বর্তমানে রনি নামে আরেক ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিন দিন বাড়ির বাইরে ছিল সে। আর এটি নিয়ে তাদের পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। ঘটনার রাতে মা ও মেয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সীমা মেয়েকে মারধর করেন। পরে পাশের রুম থেকে বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ শ্বশুরবাড়ি এলাকায় থাকেন, ছোটখোটো ব্যাবসা করেন। আকাশ ও সিমা মাদকাসক্ত ছিল বলে জানা গেছে। আকাশ বর্তমানে পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব