চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় জরুরি বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখার পাশাপাশি উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ২০০ দুর্গত পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি চিড়া, আধা কেজি মুড়ি, আধা কেজি গুড়, স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, লবণ, মোমবাতি, বিস্কুট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১০০ জনকে ১০ কেজি করে চাল এবং ২০০ জনকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৫৪০ মেট্রিক টন চাল ও ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার এবং ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যায় জেলার ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে ৫১৪টি সড়ক এবং ১৭৬টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করে সংযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। পিডিবি, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত টিম এ কাজে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসন দিনরাত কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি