জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর ব্যবহৃত এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ডেকে একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে ।
রোববার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের ধর্মকুড়া এলাকায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে পাল্টা অভিযোগ তোলেন গাড়ি ভাঙচুরের শিকার বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নবাব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকায় গ্রেপ্তার হয়েছি। গায়েবি মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছি। কিন্তু এখন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব আরও বলেন, আমার এবং এমপি সাহেবের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুরকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি ।
তিনি অভিযোগ করেন দলের উপজেলা দলীয় অফিসে কথিত সংবাদ সম্মেলন ডেকে আমাকে বহিষ্কারের দাবি করা হয়েছে। অথচ আমি একজন করানির্যাতিত মানুষ। আমার এবং আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক । আমার ওপর জুলুম করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পৌর শহরের সিরাজাবাদ রোডস্থ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমউদ্দৌলা পাহলোয়ান বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম নবাবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, নবাব গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে এমপি মহোদয়ের মেয়ে ও উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক নাসিদা সাফিজ বিনতীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অথচ নবাব নিজেই দলীয় পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন দলের বদনাম করতেছেন। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াসহ তাঁকে দলীয় পদে থেকে বহিষ্কারের দাবি করছি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের কথিপয় নেতাকর্মীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারক কেন্দ্র করে
দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির কিছু লোকজন ইসলামপুরস্ত জেলাপরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ঢুকে সেখানে পারকিং করে রাখা নবাবের গাড়ি ভেবে এমপির গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে নবাবের গাড়িটিও ভাঙচুর করে তারা। পরবর্তীতে চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইউসুফকে মারধরের অভিযোগ উঠে।
রোববারের সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব এমপি ও তার গাড়ি ভাংচুরের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। এছাড়া তিনি দলীল হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব