রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে সরকার আন্তর্জাতিক মানের নতুন আইন প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের পরিবর্তিত কৌশল মোকাবিলায় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অপরাধ দমনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এতে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ, তদন্ত ও বিচার পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। আইনে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের বিধান রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রধান বিধানসমূহ তুলে ধরেন। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম