স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে মর্গান রজার্সের ক্রস থেকে কাছ থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা।
৮৬তম মিনিটে মেসির দারুণ পাস থেকে বাঁকানো শটে সমতা ফেরান এনসো ফার্নান্দেস। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন বদলি স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়েই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে গোল করতে না পারলেও নিজের অসাধারণ সৃষ্টিশীলতায় পার্থক্য গড়ে দেন লিওনেল মেসি। এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দিয়েগো ম্যারাডোনার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮।
এছাড়া মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন। ২০০৬ থেকে শুরু করে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিটি বিশ্বকাপেই সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন তিনি।
গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ডাইরেক্ট গোল ইনভলভমেন্টের রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। ৩৯ বছর বয়সেও দলের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ফাইনালে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এদিকে হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ফাইনালের স্বপ্ন দেখলেও শেষ মুহূর্তে মেসির জাদুতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এখন শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি