স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গভবনের সামনে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে নিজেকে এক বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাজধানীর কদমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন খান।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর এমন আবেদন জানান তিনি। পরে সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, কিশোর গ্যাং, মাদক, সামাজিক অস্থিরতা ও মূল্যবোধের সংকট মোকাবিলায় কাজ করবেন।
নিজেকে ‘অযোগ্য’ উল্লেখ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশ যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তাই একজন ‘অযোগ্য’ মানুষকে এক বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি সমাজ বদলাতে চাই। যদি এক বছরেও কোনো পরিবর্তন আনতে না পারি, তাহলে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার লক্ষ্য অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং সমাজে শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনা।
তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের অপব্যবহার, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিস্তারের কারণে সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকের মতো একটি মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তুলতে চান তিনি। যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার পরিবেশ থাকবে। তার মতে, কঠোর শাস্তির পরিবর্তে ভালোবাসা ও সচেতনতার মাধ্যমে মানুষকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ঢাকার কদমতলী থানার জুরাইন এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে একটি এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক টিকিটিং, রিজার্ভেশন ও ফ্লাইট কন্ট্রোলিং-সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত আছেন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছা নতুন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে স্কুলজীবন থেকেই তার এমন স্বপ্ন ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের অবক্ষয় তাকে আবারও এ বিষয়ে সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
বক্তব্যের শেষে নিজের প্রচারণার স্লোগান তুলে ধরেন-‘ভালো মানুষ, ভালো দেশ, স্বর্গভূমি বাংলাদেশ’। পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
এদিকে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। স্বাস্থ্যগত কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব