ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. নজরুল ইসলাম (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নিহতের শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে আসামি মো. শাহাজাহান আলীকে (৪১) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভূল্লী থানার আফজালপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার অপর আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত নজরুল ইসলাম প্রায় পাঁচ বছর আগে শিরিন আক্তারকে (২৩) বিয়ে করেন। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানামুখী পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। গত ১৮ জুলাই শনিবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে স্ত্রী শিরিনের ফোন পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান নজরুল।
শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর পর পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে কাঠের শক্ত বাতা দিয়ে নজরুলের বুক, গলা ও পায়ে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ২২ জুলাই বুধবার নজরুলকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নজরুল।
এ ঘটনায় নিহত যুবকের পরিবার বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভূল্লী থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালেব প্রধান জানান, এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার আসামির রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব