ফিচার ডেস্ক: মানবদেহে মোট ২০৬টি হাড় রয়েছে, তবে নবজাতকের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ৩০০। কারণ, জন্মের সময় শিশুর অনেক হাড়ই আসলে তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) দিয়ে তৈরি থাকে। এটি অনেক বেশি নমনীয় হওয়ায় গর্ভে বেড়ে ওঠার সময় ভ্রূণ সহজে কুঁকড়ে থাকতে পারে।
শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই তরুণাস্থি অস্থিকরণ (ossification) নামের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে হাড়ে পরিণত হয় এবং অতিরিক্ত অনেক হাড় একে অপরের সঙ্গে জোড়া লেগে যায়।
নবজাতকের মাথার যে নরম অংশগুলোকে ফন্টানেল (fontanelle) বলা হয়, সেগুলোও এই হাড়ের সংযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শক্ত হয়ে ওঠে। এ কারণেই শিশুদের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন হাড়ের টিস্যু গঠনে এটি অপরিহার্য।
তবে অস্থিকরণ রাতারাতি শেষ হয় না। এটি সাধারণত মানুষের বিশের মাঝামাঝি বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময়েই একজন মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বা সর্বোচ্চ অস্থি ভর (peak bone mass) গড়ে ওঠে।
যেমন আমাদের ত্বক নিয়মিত ঝরে নতুন ত্বক তৈরি হয়, তেমনি হাড়ও সারাজীবন পরিবর্তিত হতে থাকে। পুরোনো হাড়ের অংশ ভেঙে যায় এবং তার জায়গায় নতুন হাড় তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে রিমডেলিং (remodeling) বলা হয়, যা ২০৬টি হাড় নিয়ে গঠিত কঙ্কালকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কার্যকর রাখতে সাহায্য করে।
প্রাণিজগতের সবচেয়ে লম্বা ঘাড় জিরাফের। এর ঘাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট, যা অন্য যেকোনো প্রাণীর ঘাড়ের তুলনায় অনেক বড়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, জিরাফ ও মানুষের ঘাড়ে সমান সংখ্যক সাতটি সার্ভাইক্যাল কশেরুকা (ঘাড়ের মেরুদণ্ডের হাড়) রয়েছে।
পার্থক্য শুধু হাড়ের আকারে। জিরাফের প্রতিটি সার্ভাইক্যাল কশেরুকার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ইঞ্চি, আর মানুষের পুরো মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্যই গড়ে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় ২৮ ইঞ্চি এবং নারীর ক্ষেত্রে ২৪ ইঞ্চি।
জিরাফ ও মানুষের ঘাড়ের হাড়ের সংখ্যা একই হওয়ার কারণ হলো, দুটিই স্তন্যপায়ী প্রাণী। এই শ্রেণির প্রাণীদের মধ্যে স্লথ ও ম্যানাটি ছাড়া প্রায় সবারই ঘাড়ে সাতটি কশেরুকা থাকে। তথ্যসূত্র: ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব