রিপোর্টার্স ডেস্ক: ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে কর্মসূত্রে পরিচয় হয়েছিল ডেভ গ্রিন ও অ্যান্ড্রিয়া উর্মস্টনের। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া সেই পরিচয় ধীরে ধীরে গাঢ় বন্ধুত্বে রূপ নেয়। একসঙ্গে কাজ, নিয়মিত ফোনালাপ, খুদে বার্তা আর একে অপরের খোঁজখবর—সব মিলিয়ে তারা হয়ে ওঠেন সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এক পর্যায়ে তা প্রেমে রুপ নেয়, গড়ায় শারিরিক সম্পর্কেও। তবে সেই প্রেম বেশিদিন টেকেনি। কয়েক মাসের মধ্যে অনুধাবন করেন—প্রেমের থেকে বন্ধুত্বের সম্পর্কেই তারা বেশি উপভোগ করেন।
এভাবেই কেটে যায় ২০ বছর। প্রেম ও বন্ধুত্বের বন্ধনে মগ্ন ডেভ গ্রিন ও অ্যান্ড্রিয়া উর্মস্টনের কেউই জানতেন না, তাদের এই সম্পর্কের পেছনে লুকিয়ে আছে রক্তের সম্পর্কের এক অবিশ্বাস্য সত্য। এতোবছর পর এক আলাপচারিতায় ডেভ জানান, তিনি দত্তক নেওয়া সন্তান। জন্মের সময় তার নাম ছিল স্টুয়ার্ট প্রাউডলাভ। কথাটি শুনে বিস্মিত হন অ্যান্ড্রিয়া। কারণ, ছোটবেলায় তার নিজের পদবিও ছিল ‘প্রাউডলাভ’। শুধু তাই নয়, জন্মের পর তার এক জমজ ভাইকেও দত্তক দেওয়া হয়েছিল।
সন্দেহ দূর করতে অ্যান্ড্রিয়া মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে জন্মতারিখ মিলিয়ে দেখা যায়, দুজনের জন্মই ২৪ মার্চ ১৯৬৬। তখনই নিশ্চিত হয়, বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই ভাই-ই আসলে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ডেভ।
সত্য জানার পর আবেগাপ্লুত অ্যান্ড্রিয়া ফোনে ডেভকে বলেন, “এটা অবশ্যই তুমিই। আমি এখনই তোমাকে নিতে আসছি।”
মায়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ডেভের মনে হয়, এই পথটি তার খুব পরিচিত। পরে তিনি বুঝতে পারেন, বাসচালক হিসেবে একসময় নিয়মিত এই পথেই চলাচল করতেন। অথচ সেই পথেই ছিল তার জন্মদাত্রী মায়ের বাড়ি এবং অ্যান্ড্রিয়ার স্কুল। এত কাছাকাছি থেকেও তারা কেউ জানতেন না, তারা একই পরিবারের সদস্য।
বহু বছর পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সুসান। একই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া ভাই ও মাকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন অ্যান্ড্রিয়াও।
অ্যান্ড্রিয়া ছোটবেলা থেকেই জানতেন, তার একটি ভাই রয়েছে, যাকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল। বহু চেষ্টা করেও মা সুসান ছেলের কোনো খোঁজ পাননি। তবে অ্যান্ড্রিয়া আশা ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত সেই খোঁজ মিলেছিল সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গায়—নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর মধ্যেই।
অন্যদিকে, ডেভ জানান, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসাতেই তিনি বড় হয়েছেন। তাই জন্মদাতা পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা কখনো করেননি। তবে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু যে নিজের বোন হয়ে উঠবেন, তা জীবনে কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেভ ও অ্যান্ড্রিয়ার মা সুসান বর্তমানে আর বেঁচে নেই। তবে মৃত্যুর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ তিনি উপভোগ করতে পেরেছিলেন। বর্তমানে ডেভ ও অ্যান্ড্রিয়া ইংল্যান্ডের কিডসগ্রোভে একসঙ্গে বসবাস করছেন। তাদের ভাষায়, বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত রক্তের বন্ধনে পরিণত হয়ে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব