রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
ঈদুল আযহার তিন সপ্তাহ পার হলেও রাজধানীর বাজারে কোরবানির মাংসের প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। গরু ও খাসির মাংসের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা ক্রেতা সংকটে পড়েছেন। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও কিছুটা কমেছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা হালকা খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন বেশি।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
মাংসের দোকানে ক্রেতার সংকট
বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস ১১০০ এবং ছাগলের মাংস ১০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বিক্রেতারা বলছেন, এই দামে ক্রেতা মিলছে না। এক বিক্রেতার ভাষায়, “যাদের কোরবানির মাংস ছিল, তারা এখনও নতুন করে মাংস কিনছেন না।”
মুরগির বাজারে কমেছে দাম, বেড়েছে বিক্রি
ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪০–১৫০ টাকা কেজিতে, যা ঈদের আগে ছিল ১৬০–১৭০ টাকা। সোনালি মুরগি ২২৫–২৩৫ টাকা, লাল লেয়ার ২৪০ এবং সাদা লেয়ার ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম এখনও কেজিপ্রতি ৫০০–৫৫০ টাকার মধ্যে। হাঁস মিলছে ৬০০–৭০০ টাকা প্রতি পিস দরে।
মুরগি বিক্রেতা মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, “ঈদের পর থেকে মুরগির চাহিদা বাড়ছে। কোরবানির মাংস খেয়ে মানুষ এখন হালকা খাবারের দিকে ঝুঁকছে। তবে দাম কম থাকায় লাভ খুব বেশি হচ্ছে না।”
মাছের বাজারে ফিরেছে প্রাণ, সরবরাহে স্বস্তি
ঈদের সময় মাছের বাজারে যে খরা ছিল, তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। বাজারে রুই, কাতল, পাবদা, চিংড়ি, টেংরা, শিংসহ সবধরনের মাছ পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে। দামেও নেই বড় ধরনের ওঠানামা। রুই-কাতল: ৩০০–৩৪০ টাকা, পাবদা: ৩৫০–৪০০ টাকা, চিংড়ি: ৬৫০–৭০০ টাকা, টেংরা: ৬০০–৭০০ টাকা, শিং: ৪০০–৪৫০ টাকা, কৈ: ২০০–২২০ টাকা,
তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস: ১৮০–২০০ টাকা, তবে দেশি জাতের শিং ও কৈ এখনও বিরল, যথাক্রমে ১২০০ ও ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা মো. কাওছার মিয়া বলেন, “ঈদের সময় মাছ বিক্রি একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার চাহিদা বেড়েছে। রুই, কাতল, পাবদা বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
ডিমের বাজারেও স্বস্তি
পাইকারি বাজারে ডিমের দাম নেমে এসেছে ১১৮–১২০ টাকা ডজন, খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১২৫–১৩০ টাকায়। যদিও পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো ১৩৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, “আগের চেয়ে ডিমের দাম কিছুটা কমায় সাশ্রয় হচ্ছে। তবে খুচরায় এখনও বেশি নিচ্ছে।”
ভোক্তাদের ঝোঁক হালকা খাবারে
রামপুরা বাজারে গৃহিণী নাহিদা সুলতানা বলেন, “ঈদের পর এখন গরুর মাংস খেতে মন চায় না। মুরগি আর মাছ তুলনামূলক সস্তা, রান্নাও সহজ। তাই দুই কেজি ব্রয়লার আর কিছু পাবদা নিয়ে যাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে কোরবানির মাংসের অতিরিক্ততা কমার পাশাপাশি স্বস্তির দামেই এখন সাধারণ মানুষ মুরগি, ডিম ও মাছের দিকেই ঝুঁকছেন।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস