মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহে পূর্ব শত্রুতার জেরে কালা চাঁন ওরফে চাঁন মিয়া (৫০)-কে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মারধরের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত চাঁন মিয়ার ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম (৩৩) বাদী হয়ে ২৯ জুলাই জামালপুরের আদালতে শাহজাহান ওরফে সাজা মিয়া (৪৮)-কে প্রধান আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-৫৪১ (১)/২৬) দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত মেলান্দহ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আহত চাঁন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিম হাজারীর ছেলে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— একই গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৬), কাজল (৫০), রহিম বাদশা (৫৩), রইচ উদ্দিনের মেয়ে আনু বালা (৫১), শাহজাহান ওরফে সাজা মিয়ার ছেলে জুয়েল (২৪), রফিকুল ইসলামের ছেলে শামীম (২৩) এবং আয়নালের ছেলে মোশারফ হোসেন মাসুম (২৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাঁন মিয়া নির্মাণাধীন কাটাখালী ব্রিজে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে প্রধান আসামি সাজা মিয়া ও তার সহযোগীরা ব্রিজের নির্মাণসামগ্রী চুরির চেষ্টা করলে চাঁন মিয়া বাধা দেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
গত ২২ জুলাই বিকেলে একটি গাভীকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে গুদারবাজারের দক্ষিণ পাশে সাজা মিয়াসহ অন্যান্য আসামিরা চাঁন মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গুদারবাজারে নিয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনরা প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিমেল বলেন, "চাঁদাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গরুকে মারধর করাকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।"
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, চাঁন মিয়া গর্ভবতী একটি গাভীকে মারধর করতে নিষেধ করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজা মিয়া সুযোগ পেয়ে তাকে মারধর করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসারও চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব