পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন প্রায় দুই দশক পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরেছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দিল্লি থেকে ফ্লাইটযোগে কলকাতায় পৌঁছান তিনি।
দীর্ঘদিন পর শহরে ফিরে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে’।
কয়েক ঘণ্টা আগেই শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে তসলিমা লিখেছিলেন, ‘আজ সকালে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিলাম।’
শনিবার (১ আগস্ট) রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত মৌলবাদবিরোধী কবি-লেখকদের এক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তসলিমা নাসরিন। বর্তমানে তিনি কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে অবস্থান করছেন।
এছাড়া ২ আগস্ট কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তার এই কলকাতা-ফেরা সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পাকাপাকিভাবে তিনি কলকাতায় থাকবেন কিনা এখনো তা স্পষ্ট নয়।
বামফ্রন্ট সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। সে সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। গণবিক্ষোভের মুখে তাকে কলকাতা ছাড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে হয়েছিল। এরপর আর কলকাতায় ফেরেননি তাসলিমা।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে তিনি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে দলটির নেতারা তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর কথা বলতে থাকেন।
যদিও বামপন্থিসহ অন্য ঘরানার রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গ সিপিআই (এম)-এর শীর্ষ নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিজেপি ও আরএসএসের হয়ে কাজ করে আসছেন। তিনি উগ্র হিন্দুত্ববাদের পক্ষেই প্রচার করেন। নাম তসলিমা নাসরিন হলেই তিনি যে মুক্ত-স্বাধীনচেতা নারী, তা তো নয়। তিনি বিজেপির দোসর। যেদিন তিনি আরএসএস ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, সেদিনই বুঝতে পারবেন কলকাতায় কতটা শান্তিতে থাকতে পারবেন।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব